রাজনৈতিক চাপে মোদি সরকার, দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার

আন্তর্জাতিক

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগ দাবি

BanglarVoice24 | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনের সমর্থকেরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানান।

ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে কর্তৃপক্ষ। মিছিলের সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ফলে নাগরিকদের ভোটাধিকার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২৮ বছর বয়সী অভয় আরিয়ান বলেন, সরকারকে জনগণের কথা শুনতে হবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকার ব্যাপক সংশোধন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-কে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্দেশ্য মৃত ব্যক্তি, একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন ও ভুয়া এন্ট্রি বাদ দেওয়া।

ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে ভারতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর শুরু হওয়া সংশোধন প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখতে মৃত ব্যক্তি, স্থানান্তরিত ভোটার, একাধিক নিবন্ধন এবং যাচাই করা যায়নি এমন এন্ট্রি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কতজন যোগ্য ভোটারের নাম ভুলভাবে বাদ পড়েছে, তা নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম স্থগিত এবং বাদ পড়া নামের স্বচ্ছ পর্যালোচনা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মেহভাইশ নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের অধীনে দীর্ঘদিনের অন্যায়-অবিচার নিয়ে তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁর বক্তব্য, ভোট দেওয়ার অধিকারও যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে নাগরিকদের হাতে আর কী থাকে?

মানবাধিকারকর্মী ও সরকারের সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, মোদি সরকারের শাসনামলে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও বিরোধীদের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে ভারত সরকার।

নিরাপত্তা জোরদার, আটক বিক্ষোভকারীরা

সোমবার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ধাতব ব্যারিকেড বসানো হয় এবং কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। বিক্ষোভকারীদের সুপ্রিম কোর্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়।

মিছিলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের নেতারা অংশ নেন। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিরোধী নেতাদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনও করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এর আগে সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ চলাকালে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনের কয়েকজন নেতাও ছিলেন।

বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ধরপাকড়ের মাধ্যমে প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সংসদ সদস্য জন ব্রিটাসও পুলিশের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।

বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আটক হয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকজন সাংবাদিকের দাবি, পরিচয়পত্র দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাঁদের আটক করা হয় এবং পুলিশের হাতে তাঁরা হয়রানির শিকার হন। সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জবাব দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন দিন

আপনার প্রতিষ্ঠান, পণ্য বা সেবার প্রচারে BanglarVoice24-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ

বিজ্ঞাপন প্রকাশের শর্ত ও মূল্য জানতে যোগাযোগ করুন।

মোদি সরকারের ওপর বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীরাও যুক্ত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

দিল্লি পুলিশ জন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন সংগঠনের নেতারা।

আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, জন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে বন্ধ করে দিলেই প্রতিবাদ থামবে না। তাঁর বক্তব্য, জন্তর মন্তর শুধু একটি স্থান নয়, এটি প্রতিরোধের প্রতীক।

অন্যদিকে, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার লক্ষ্যেই কংগ্রেস এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে।

নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক

ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভ ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নাগরিকদের ভোটাধিকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে নির্বাচন কমিশন তালিকা নির্ভুল করার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য ভুলভাবে নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি, বাদ পড়া নামের পর্যালোচনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর এ বিতর্কের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
BanglarVoice24

সংবাদ, তথ্য ও জনস্বার্থের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন