পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ হয়েছিলেন আমিন খান, আড়াই মাস ছিলেন আইসোলেশনে

বিনোদন ডেস্ক

পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ হয়েছিলেন আমিন খান, সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়ান

BanglarVoice24 | বিনোদন

নব্বইয়ের দশক থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন চিত্রনায়ক আমিন খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ে শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা আজও তাঁর জীবনের অন্যতম দুঃসহ স্মৃতি।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে সেই দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। তিনি জানান, ‘জ্যান্ত কবর’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে পেট্রোল বোমার আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছিলেন। দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তাঁর বেঁচে থাকা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

যেভাবে ঘটেছিল ভয়াবহ দুর্ঘটনা

আমিন খানের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের একটি শুটিং হাউসে সিনেমাটির শেষ দৃশ্যের শুটিং চলছিল। দৃশ্যটিতে তাঁর পেছনে একের পর এক পেট্রোল বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত দূরত্ব পর্যন্ত দৌড়ানোর সময় বিস্ফোরণগুলো ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অভিনেতা জানান, মাটিতে ছয়-সাতটি পেট্রোল বোমা রাখা ছিল এবং প্রতিটিতে প্রায় ৩০ লিটার করে পেট্রোল ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে তাঁকে দৌড়াতে হতো। ক্যামেরা থেকে ‘অ্যাকশন’ বলার পর তিনি দৌড় শুরু করেন। কিন্তু প্রথম বোমাটি বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরই তাঁর সামনে ও চারপাশে থাকা প্রায় আটটি বোমা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণের ফলে আগুন সরাসরি তাঁর শরীরে এসে পড়ে। মুহূর্তেই তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরে যায়। চুল, মুখ, গলার নিচের অংশ, পিঠ ও হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। মুখের সামনের অংশের চামড়াও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

“পুরো আগুনটা এসে আমার শরীরে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আমার সারা শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।”

— দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণে চিত্রনায়ক আমিন খান

দুর্ঘটনার পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট পোড়ার ক্ষত ও দাগের কথা উল্লেখ করে আমিন খান জানান, সেই ঘটনার চিহ্ন এখনো বহন করছেন তিনি। শুটিং সেটে উপস্থিত ব্যক্তিরা তখন তাঁর জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।

শরীরে আগুন নিয়েই নিরাপদ আশ্রয়ের চেষ্টা

অভিনেতার বর্ণনা অনুযায়ী, শরীরে আগুন ধরে যাওয়ার পরও আত্মরক্ষার তাগিদে তিনি দৌড়ে ক্যামেরার নির্ধারিত সীমানা পার হয়ে একটি ঘরে ঢুকে পড়েন। সেখানে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে আয়নায় নিজের চেহারা দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান। আগুনে তাঁর মুখ মারাত্মকভাবে পুড়ে কালচে হয়ে গিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন দিন

আপনার প্রতিষ্ঠান, পণ্য বা সেবার প্রচারে BanglarVoice24-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য যোগাযোগ

বিজ্ঞাপন প্রকাশের শর্ত ও মূল্য জানতে যোগাযোগ করুন।

আড়াই মাস আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা

দুর্ঘটনার পরপরই আমিন খানকে ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকি ও মুখে স্থায়ী দাগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে চিকিৎসকেরা সতর্ক ছিলেন বলে তিনি জানান।

আমিন খানের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, দেশের শীর্ষস্থানীয় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাঁকে প্রায় আড়াই মাস আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও সেবাযত্নের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেতার জীবনের সেই দুর্ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আগুনে দগ্ধ হওয়ার স্মৃতি এবং শরীরে রয়ে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন তাঁকে সেই কঠিন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

BanglarVoice24

সংবাদ, তথ্য ও জনস্বার্থের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম

বিভাগ: বিনোদন ডেস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন